২০০৬ সালের শুরুর দিকে ফেসবুক এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ মিলিয়ন। তখন ৪০ বাই ৬০ ফুট এর একটা ভাড়া করা ঘরে কয়েক সারি কম্পিউটারে জমা থাকতো মেম্বারদের তথ্য। আজকের দিনে সেই ফেসবুক তার এক বিলিয়ন এর উপর মেম্বারদের তথ্য জমা রাখতে তাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে হাজার হাজার স্কয়ার ফুটে সারি সারি ভাবে সাজানো সার্ভার সমূহ। আর সেগুলো কে সচল রাখতে ব্যয় হচ্ছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কুলিং সিষ্টেম।  শুধু ফেসবুক নয়, এটিএম থেকে টাকা তোলা,অনলাইন পত্রিকা পড়া, ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট করা – প্রতি ক্ষেত্রে বিশাল পরিমাণ ডাটা প্রবাহিত হচ্ছে প্রতিটা ক্লিক এ।

নিউ ইয়র্ক টাইমস এর বছরব্যাপি নিরীক্ষায় দেখা গেছে, তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ার বুনিয়াদ এই সব ডাটা সেন্টার গুলি খুব সামান্য ই দক্ষভাবে বিদ্যুত্‍ ব্যবহারে ব্যর্থ এবং পরিবেশ অবান্ধব। সাধারণত সব অনলাইন কোম্পানী ই তাদের ডেটা সেন্টার সমূহ সর্বক্ষণ চালু রাখেন, তাতে সেটার চাহিদা থাকুক বা নাই থাকুক। সেই স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ডাটা সেন্টারে বিদ্যুতের অপচয়ের পরিমাণ কোন কোনও ক্ষেত্রে ৯০% ছাড়িয়ে যায়। নূন্যতম পাওয়ার ফেলিওর এড়ানোর জন্য নির্ভর করতে হয় বিশালাকার জেনারেটর এর উপর- যেগুলো কিনা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডিজেল অথবা পেট্রোল চালিত। সিলিকন ভ্যালী’র রাজ্য সরকারের সবথেকে উচ্চ মাত্রার দূষণকারীর তালিকায় রয়েছে সব ডাটা সেন্টার গুলো ।টাইমস’ এর ওই সমীক্ষায় আরো জানা যায়- বিশ্বব্যাপী সব ডিজিটাল ওয়ার হাউজ খরচ করে ৩০ বিলিয়ন ওয়াটস ইলেক্ট্রিসিটি- ৩০ টি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট থেকে পাওয়া সম্ভব। এর মধ্যে আমেরিকা তে খরচ হয় এক চতুর্থাংশ থেকে এক তৃতীয়াংশ। কয়েকশ ডাটা সেন্টারএর ডিজাইনার পিটার গ্রস বলেন: “ সাধারণ মানুষের পক্ষে কিছু সংখা দেখে আইসিটি ইন্ডাসট্রি’র বিশালতা বোঝা অসম্ভব, একটা ডাটা সেন্টারের বিদ্যুত্‍ চাহিদা কোনও মাঝারী মাপের শহরের চাহিদার থেকে বেশি”।

আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ঐসব ডাটা সেন্টার সাধারণ সময়ে তাদের ক্ষমতার 6 থেকে 12 শতাংশ কম্পিউটিং পাওয়ার ব্যবহার করে, বাকিটা রাখা হয়েছে ভবিষ্যত চাহিদা আর যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য। এই চরম সত্য অনেকটা কল্প কাহিনীর মত মনে হবে বাস্তব জীবনের ইন্টারনেট এ – যেখানে সবাই বসবাস করে “virtual” জগতে এবং সব ঘটনা ঘটে “ক্লাউড” রাজ্যে।

এই অকার্যকর ভাবে বিদ্যুত্‍ অপচয় এর পেছনে আমরা- ভোক্তারা ও কিন্তু কম দায়ী নই! আমরা চাই ক্লিক করার নিমেষেই যেন হাজির হয় আর সেটার চাহিদা মেটাতে কোম্পানীগুলো বাধ্য হয়। আমাদের চাওয়া যে নেহায়েত অমূলক- তা বলছিনা! যে হারে বাড়ছে প্রসেসর আর হার্ড ডিস্ক এর ক্ষমতা সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা স্পীড। তাহলে উপায়?

উপায় একটা ই পরিবেশ বান্ধব ও বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ী ডেটা সেন্টার। সেটা করা যেতে পারে বিভিন্ন উপায়ে- হতে পারে বিকল্প জ্বালানি চালিত জেনারেটর, কম তাপমাত্রা নির্গমন করে এমন যন্ত্রাংশ। ডেটা সেন্টারের তাপমাত্রা মূলত বেড়ে যায় প্রসেসর গুলোর কারণে আর হাজার হাজার হার্ডডিস্ক এ ঘূর্ণমান মোটরের ফলে। আর এগুলোকে কর্মক্ষম রাখতে প্রয়োজন পড়ে বিশালাকার কুলিং সিষ্টেম। সম্ভাবনার কথা হল- এখন প্রসেসর নির্মাতারা মনোযোগী হচ্ছেন বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ী চিপ নির্মাণে। কিন্তু পরিবেশ বান্ধব ও বিদ্যুত্‍ সাশ্রয়ী মেমোরি খুব একটা নজরে পড়ে না । খুব সীমিত পরিসরে গবেষণা চলছে অর্গানিক স্টোরেজ নিয়ে। কিছুদিন আগে RUET এর এক সেমিনারে আমি বলেছিলাম ডিএনএ নির্ভর ডেটা স্টোরেজ ই হতে পারে এইসব ডেটা সেন্টারএর ভবিষ্যত তথ্যের আধার। শুনতে আশ্চর্য হলেও সত্যি; এক গ্রাম ডিএনএ তে জমা রাখা যেতে পারে ৭০০ টেরাবাইট্স ডেটা! বেশকিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে যদি আমরা সত্যিই একে কাজে লাগাতে পারি:

প্রথমত: অসাধারণ ঘনত্ব

দ্বিতীয়ত: ঘনমিক সাইজ

তৃতীয়ত: নির্ভরযোগ্য

অর্গনিক হবার কারণে এতে তথ্য জমা রাখা হয় জৈব-রাসায়নিক উপায়ে- ইলেক্ট্রনিক ডেটা’র ক্ষুদ্রতম একক যেমন “বিট”, অর্গনিক ডেটা’র হল “বেইজ”। ০ আর ১ কে এখানে উপস্থাপন করতে হয় ৪ টা বেইজ দিয়ে:

Adenine (A) = 0

Guanine (G) = 1

Cytosine (C) = 0

Thymine (T) = 1

হয়ত একদিন আমরা আমাদের শরীরের মধ্যে করে ই মুভি নিয়ে ঘুরবো, কে জানে!!

[December 6, 2012 at 4:15pm]


Leave a Reply

Your email address will not be published.